৪৪৬ টি বেসরকারি স্কুলের লাইসেন্স বাতিলের হুশিয়ারি মধ্য শিক্ষা পর্যদের। কেন এই সিদ্ধান্ত?

পশ্চিমবঙ্গ সহ সমগ্র ভারতে সরকারি স্কুলের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের চাহিদাও কম নয়। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ঘরের পিতা-মাতারা তাদের শিশুদের বেসরকারি স্কুলে পড়াতে বেশি পছন্দ করেন, কারণ তারা মনে করেন সরকারি স্কুলের তুলনায় বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনায় বেশি পরিমাণে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং এই সমস্ত স্কুলে ইংরেজি ভালোভাবে শেখানো হয়৷ সেই কারণে বর্তমানে বেশিরভাগ অভিভাবকেরা বেসরকারি স্কুলে নিজেদের সন্তানদের ভর্তি করে থাকেন।

কিন্তু বর্তমানে এই সমস্ত বেসরকারি স্কুলের লাইসেন্স বাতিলের কথা উঠছে সরকারের তরফে। যার কারণে একদিকে যেমন বেসরকারি স্কুলে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীদের চিন্তা বাড়ছে, তেমনই অভিভাবকদেরও কপালে দেখা যাচ্ছে চিন্তার ভাজ। কিন্তু কেন এই স্কুলগুলোর লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ তা নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন। পুরো খবরটি জানতে ভালোকরে প্রতিবেদনটি পড়ুন।

সমগ্র রাজ্যে ৪৫৬ টি সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত বেসরকারি স্কুল রয়েছে। উক্ত অনুমোদন প্রাপ্ত বেসরকারি স্কুল গুলোকে মধ্যশিক্ষা পর্যদের গাইডলাইন মেনে নিজেদের পঠন-পাঠন চালিয়ে নিয়ে যেতে হয়। এই গাইডলাইনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নিয়ম হলো সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত বেসরকারি স্কুলগুলোকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দিষ্ট সিলেবাস স্কুলগুলির নিজস্ব সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্কুলগুলি চাইলে অতিরিক্ত বই বা সিলেবাস যুক্ত করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বই বাদ দিয়ে পুরো সিলেবাসটাকেই নিজের মতো করে সাজিয়ে নিচ্ছে এবং এখানেই বাঁধছে সমস্যা।

আরও পড়ুন:- কি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে কোন স্তরে শিক্ষকতা করতে পারবেন? বিস্তারিত জেনে নিন।

রাজ্য সরকারের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নবম এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের সিলেবাসে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বই এবং সিলেবাস রাখা বাঞ্ছনীয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফ থেকে পর্ষদ অনুমোদিত বেসরকারি স্কুল গুলোর কাছ থেকে সিলেবাস সংক্রান্ত রিপোর্ট চাওয়া হয়। কিন্তু দেখা যায়, মাত্র ১৫-১৬ টি স্কুল বাদ দিয়ে বাকি স্কুলগুলো এই রিপোর্টকে গুরুত্বই দেয় নি। সেই জন্য পর্ষদ নড়ে-চড়ে বসেছে। পর্ষদ আরও জানিয়েছে, অতি শীঘ্রই এই রিপোর্ট স্কুলগুলি জমা না করলে উক্ত স্কুলগুলির অনুমোদন বাতিল করা হবে।

পর্ষদের মতে, যে সমস্ত বেসরকারি বিদ্যালয় সরকারের অনুমোদন প্রাপ্ত সেই সমস্ত বিদ্যালয়গুলিকে পর্ষদের তৈরি করা সিলেবাস ও পর্ষদের বই নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। এবং এটি সঠিকভাবে চলছে কিনা তা জানার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পর্যদের তরফে।

Leave a Comment