মাধ্যমিক পরীক্ষার পর কি নিয়ে পড়লে কি কি সুবিধা মেলে

কিছুদিন পূর্বেই সমগ্র রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুলগুলির ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কাছে এই পরীক্ষাই তাদের জীবনের প্রথম সব থেকে বড় পরীক্ষা। আর তাই মাধ্যমিকের রেজাল্ট থেকে শুরু করে আগামীতে কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে ভালো রেজাল্ট হবে কোন বিষয় নিয়ে পড়লে খুব তাড়াতাড়ি চাকরি পাওয়া যাবে তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছেন সমগ্র রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকেরা। তবে মাধ্যমিকের পর কোনো ছাত্র বা ছাত্রী কোন বিভাগ এবং কোন কোন বিষয় নির্বাচন করছে তার ওপর তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেকাংশই নির্ভর করছে। যার কারণে মাধ্যমিকের পর কোন বিষয়টি নিয়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হবেন তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় থাকেন ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকেরা।

মাধ্যমিকের পর কোন বিষয় নিয়ে পড়লে আপনারা কি কি সুবিধা পাবেন:-

ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি যে, মাধ্যমিকের পর তারা মূলত তিনটি বিভাগে পড়াশোনা করবার সুযোগ পান। আর এই তিনটি বিভাগ হলো আর্টস, সাইন্স এবং কমার্স। এই তিনটি বিভাগের অধীনে অসংখ্য বিষয় থাকে, তার মধ্যে থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের পছন্দ অনুসারে যেকোনো চারটি বিষয় বেছে নিয়ে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিভাগের অধীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তবে প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব পৃথক পৃথক বিষয় রয়েছে এবং এই বিষয়গুলি নিয়ে পড়লে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। যেকোন বিভাগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের মূল প্রশ্নটিই হল উক্ত বিভাগে পড়াশোনা করলে পরবর্তীতে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে প্রথমেই আসা যাক আর্টস বা কলা বিভাগের কথায়।

আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করলে যে যে সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে তা হলো:-

আর্টস বিভাগ বা কলা বিভাগের অধীনে ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃত, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, এডুকেশন, দর্শন, হোম ম্যানেজমেন্ট, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, সোশ্যাল সায়েন্স, শারীরশিক্ষা, পলিটিক্যাল সায়েন্স সহ একাধিক বিষয় রয়েছে। একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে এই সমস্ত বিষয়গুলির মধ্যে থেকে নিজের পছন্দ অনুসারে যেকোনো চারটি বিষয় নির্বাচন করে নিতে হয়। তবে একজন ছাত্র বা ছাত্রী কোন কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন তা তার নিকটবর্তী স্কুলগুলিতে কোন কোন বিষয় উপলব্ধ রয়েছে তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি যে, তাদের যে চারটি বিষয় নির্বাচন করতে হবে তার মধ্যে ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পলিটিক্যাল সায়েন্স, এডুকেশন -এর মত বিষয়গুলি থাকলে তারা পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বেশি সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে পলিটিক্যাল সাইন্স, এডুকেশন, শারীর শিক্ষা, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, হোম ম্যানেজমেন্ট -এর মত বিষয়গুলি নির্বাচন করলে অনেক বেশি নম্বর পাওয়া সম্ভব।

পরবর্তীতে এই সমস্ত বিষয়গুলির মধ্যে যেকোন একটি নির্বাচন করে গ্রাজুয়েশন এবং পোস্টগ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা NET পরীক্ষা দিতে পারবেন এবং পিএইচডি সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যদিকে যারা দ্রুত সাফল্য পেতে চান তারা অনার্স অথবা জেনারেল কোর্সের আওতায় পড়াশোনা করে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে নানা ধরনের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রাইভেট সেক্টরে চাকরি করতে পারবেন। অন্যদিকে বহু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী রান্না করতে ভালোবাসেন এবং পরবর্তীতে ডায়েটিশিয়ান হতে চান। তাদের জন্য নিউট্রিশিয়ান বিষয়টি একেবারে পারফেক্ট। অনেকেই উচ্চ মাধ্যমিকের কথা চিন্তা না করে সরাসরি ডিপ্লোমা করতে চান তাদের জন্য ITI, পলিটেকনিক -এর মত কোর্সগুলি একেবারে পারফেক্ট। তবে এখানেই শেষ নয় এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি যে, আর্টস বিভাগে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে আইন অথবা ল এবং জার্নালিজম -এর মতো বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন:- রাজ্যের সংখ্যালঘুদের জন্য ওয়েসিস স্কলারশিপ, আবেদন করলেই মিলবে ১৪ হাজার ৪০০ টাকা

সায়েন্স বিভাগ নির্বাচন করলে পরবর্তীতে যে যে সুবিধা গুলি পাওয়া যাবে তা হল:-

ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে প্রথমে জানিয়ে রাখি যে, যেসমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, নার্স অথবা বি ফার্মার মত কোর্সগুলি করতে চাইছেন তাদের জন্য সায়েন্স বিভাগ একেবারে পারফেক্ট। সায়েন্স বিভাগের অধীনে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, অংক এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো বিষয়গুলি রয়েছে। এক্ষেত্রে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে তার পছন্দ অনুসারে যেকোন চারটি বিষয় নির্বাচন করতে হয়। তবে আপনি কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবেন তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে আপনি কোন দিকে অগ্রসর হতে চাইছেন তার উপর। আপনি যদি ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চান তবে আপনাকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং অঙ্ক নির্বাচন করতে হবে।

অন্যদিকে আপনি যদি মেডিকেল কিংবা নার্সিং -এর মত কোর্সগুলির অধীনে পড়াশোনা করতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই বায়োলজি নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তাদের জন্য ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং কম্পিউটার সায়েন্স বিষয় তিনটি একেবারে পারফেক্ট। এর পাশাপাশি আরো জানিয়ে রাখি যে, যেসকল ছাত্র-ছাত্রীরা আগামী দিনে এই সমস্ত বিষয়ের উপর গ্রাজুয়েশন এবং পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে চাইছেন তারা নিজেদের পছন্দসই বিষয়গুলি নির্বাচন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা যে সমস্ত বিষয়গুলি নির্বাচন করবেন তার মধ্যে থেকে যেকোনো একটি বিষয়ের উপর গ্রাজুয়েশন, পোস্ট গ্রাজুয়েশন এবং পিএইচডি করা সম্ভব।

এবার আসা যাক কমার্সের কথায়। অনেকেই মনে করেন যারা হিসাব ভালো পারেন তাদের জন্যই কমার্স। আবার অনেকে মনে করেন কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করলে চাকরিক্ষেত্রে তেমন একটা সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে না। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক

কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করলে কি কি সুবিধা পাওয়া সম্ভব:-

কমার্স বিভাগে অ্যাকাউন্টান্সি, ল অ্যান্ড অডিট, বিজনেস স্টাডিস, কস্ট এন্ড ট্যাক্স, ইকোনমিক্স, স্ট্যাটিসটিকস, অংক এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের এডিট এর মতো বিষয়গুলি রয়েছে। আপনি ভবিষ্যতে কোন দিকে অগ্রসর হতে চাইছেন বা কোন কোর্সের আওতায় পড়াশোনা করতে চাইছেন তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে নিজের পছন্দ অনুসারে বিষয় নির্বাচন করতে হবে। অনেকেই মনে করেন কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করলে ভালো চাকরি পাওয়া সম্ভব নয় অথবা ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব নয়। তবে এই সমস্ত ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত। নিজের পছন্দ অনুসারে বিষয় নির্বাচন করে যেকোন বিভাগের অধীনে ভালোভাবে পড়াশোনা করলেই ভালো রেজাল্ট এবং ভালো চাকরি দুটিই পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment